.............. ................ ................... ...................
  নরসিংদী তাপমাত্রা: ১৬সে:   শিরোনাম :নরসিংদী পৌরসভার  ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের জন্য আটষট্টি কোটি তিরানব্বই লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার বিশ টাকার বাজেট  ঘোষণা                                                   ***                                                                  থাইল্যান্ডের কারাগারে বন্দি নরসিংদীর ৩৭ যুবক                                                                                                               ***                                                                                              প্রত্নতাত্ত্বিক খনন উয়ারী- বটেশ্বরে আরেকটি বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান                                  ***                                                                            শিগগিরই উন্মুক্ত হবে ওয়ারি-বটেশ্বর                                          ***                          বেলাব উয়ারী-বটেশ্বর পরিদর্শনে সংস্কৃতি মন্ত্রী                                                                  ***                                                   নরসিংদীতে রমজানে কাঁঠালের দরপতন                                                ***                                                 নরসিংদীতে বেগুনের কেজি ৩০, আর ঢাকায় ১০০                                           ***                                                                             নরসিংদীতে জলডুগি আনারসের বাম্পার ফলন                              ***                                                                  নরসিংদীর লেবু রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপে                                                        ***                                                         নরসিংদীর লটকন যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে


 ওয়েবের প্রথম পাতা

free counters

 এই ভিজিটর কান্ট্রি কাউন্টারটি পরীক্ষামূলক ভাবে ১২ই আগস্ট ২০১২ইং হতে চালু করা হলো।

      

N a r s i n g d i T r a i n

S c h e d u l e

 



নরসিংদীতে গিরিশ চন্দ্র সেন-এর বাড়িতে জাদুঘর নির্মাণ হচ্ছে

নরসিংদী সদর উপজেলার পাচদোনা এলাকায় অবস্থিত পবিত্র কোরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন-এর বাড়ির প্রততাত্ত্বিক সংরক্ষণ এবং সেখানে তাঁর ঐতিহাসিক স্মৃতি ধারণ করার লক্ষ্যে একটি জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং ভারতীয় হাইকমিশনের সহযোগিতায় কাজটি বাস্তবায়নের পেছনে কাজ করছেন, ঐতিহ্য অন্বেষণ(প্রততাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র)-এর নির্বাহী পরিচালক .সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম। তারা ইতোমধ্যে গিরিশ চন্দ্র সেনের প্রায় দেড় বছরের পুরনো পরিত্যক্ত বাড়িটি সংরক্ষণের জন্য কাজ শুরু করেছেন। গত ১৬/০২/২০১৬ ইং মঙ্গলবার দুপুরে এর আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা . গওহর রিজভী

ঐতিহ্য অন্বেষণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য . নূহ-উল-আলম লেনিন-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন, ভারতীয় হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারী গিনা উকা, নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, নরসিংদী সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোতাকাব্বির আহমেদ প্রমুখ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে .রিজভী বলেন, বাংলাদেশ সব সময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি দেশ। এখানে সকল ধর্মের লোক সম্প্রীতির বন্ধনে বাস করে। ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের এই বিল্ডিংটি(বাড়িটি) একটা নিদর্শন হিসেবে থাকবে ভারতীয় হাই কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে . রিজভী আরো বলেন, ভারত সব সময় আমাদের বন্ধু এবং বন্ধু হিসেবে আমাদের সঙ্গে থাকবে সবসময়।

এর আগে বেলা ১১ টার দিকে তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার টঙ্গীরটেক এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো প্রততাত্ত্বিক নিদর্শনস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে ২০১৫-১৬ সালের (পঞ্চদশ-তম) খনন কাজ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় . গওহর রিজভী বলেন, প্রততাত্ত্বিক খনন কাজটা ভালবাসার কাজ। কাজটা পয়সা দিয়ে পাওয়া যাবে না। এরজন্য তিনি . লেলিন এবং . সুফি মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রানঢালা অভিনন্দন জানান

এসময় সেখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য . নূহ-উল-আলম লেনিন-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সাংসদ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নরসিংদী এসপি আমেনা বেগম, নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দারউয়ারী-বটেশ্বরে পঞ্চদশ প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু
নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলের টঙ্গীরটেকে পঞ্চদশ প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিবপুর উপজেলার টঙ্গীরটেক এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে খননকাজের উদ্বোধন করেন। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র ঐতিহ্য অন্বেষণ খননকাজটি করছে।
ঐতিহ্য অন্বেষণ সূত্রে জানা গেছে, উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। এর আগে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে এখানে প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর, বন্দর, রাস্তা, পার্শ্ব রাস্তা, পোড়ামাটির ফলক, স্বল্প মূল্যবান পাথর, কাচের পুঁতি, মুদ্রাসহ উপমহাদেশের প্রাচীনতম ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে। ২০০৭, ২০০৮ ২০০৯ সালের খননে ইটনির্মিত স্থাপত্যের সন্ধান মিলেছে। ২০০৯, ২০১০ ২০১১ সালে কামরাব ধুপিরটেক মন্দির ভিটা আবিষ্কৃত হয়েছে, যা একটি বৌদ্ধ পদ্মমন্দির। ২০১২ ২০১৩ সালে জানখারটেক এলাকায় আবিষ্কৃত হয়েছে বৌদ্ধ বিহারিকা। ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ ২০১৫ সাল থেকে টঙ্গীরটেকে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে একটি বৌদ্ধমন্দিরের অংশবিশেষ। বছর বাকি অংশের কাজ শুরু হয়েছে আজ থেকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংসদ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা টঙ্গীরটেকে বৌদ্ধমন্দিরের অংশবিশেষ সংরক্ষণে স্থাপনা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
ঐহিত্য অন্বেষণের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূহ-উল-আলম লেনিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) জসীম উদ্দীন হায়দার, প্রত্ন গবেষক নিদর্শন সংগ্রাহক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আফসার প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন ঐহিত্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক খনন দলের প্রধান অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গওহর রিজভী বলেন, উয়ারী-বটেশ্বর আমাদের অস্তিত্বের ঐহিত্য। এর চেয়ে বড় ঐতিহ্য কিছু নেই। তাই এটিকে সংরক্ষণ করা খুব জরুরি। দুই সপ্তাহের মধ্যে বৌদ্ধমন্দিরটি সংরক্ষণে পূর্ণাঙ্গ একটি নকশা করার ঘোষণা দেন তিনি

উয়ারী-বটেশ্বরের কাছে প্রথম প্রত্নস্থান জাদুঘর

নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বরের কাছাকাছি এলাকায়  গত ০৬/০২/২০১৬ ইং শনিবার দুপুরে দেশের প্রথম প্রত্নস্থান জাদুঘর নির্মাণকাজের উদ্বোধন হয়েছে। শিবপুর উপজেলার কামরাব ধুপিরটেক এলাকায় আবিষ্কৃত বৌদ্ধ পদ্ম-মন্দিরের সংরক্ষণ এবং জাদুঘর নির্মাণের ওই কাজ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক গৌরাঙ্গ চন্দ্র মহান্ত। এটি বাস্তবায়ন করছে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র ঐতিহ্য অন্বেষণ
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ঐতিহ্য অন্বেষণের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূহ-উল-আলম লেনিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান মোকাম্মেল হোসেন ভূঁইয়া, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফরোজা খান, শিবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ উল ইসলাম মৃধা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) জসীম উদ্দীন হায়দার প্রমুখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঐতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান এবং ধন্যবাদ জানান প্রত্ন-গবেষক নিদর্শন সংগ্রাহক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান।
হাবিবুল্লাহ পাঠান বলেন, এই জাদুঘর নির্মাণের মাধ্যমে বৌদ্ধ সভ্যতার ইতিহাস বিকশিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ধুপিরটেকের এই বৌদ্ধ পদ্ম-মন্দিরটি সম্ভবত আট শতকের দিকে নির্মাণ করা হয়েছিল।
সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই পদ্ম-মন্দিরের কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা হবে না। এটিই হবে দেশের প্রথম প্রত্নস্থান জাদুঘর। জাদুঘরটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা খরচ হবে

নরসিংদ সদর উপজেলার মাধবদীক নতুন থান হিসেব অনুমোদন

দীর্ঘ ২৪ বছরের প্রাণের দাবির অবশেষে সফল হয়েছে নরসিংদীর মাধবদীবাসীর। গত ২৯/০২/২০১৬ ইং রোজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে নিকার সভায় সদরের মাধবদী তদন্ত কেন্দ্রকে থানায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আর এই ঘোষণায় আনন্দে ভাসছে গোটা মাধবদীবাসী। শহরের বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ-মিছিল বের করা হয়েছে, বিতরণ করা হয়েছে মিষ্টি।

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী সদর থানার একটি পৌরসভা সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে মাধবদী থানা গঠিত হয়েছে। মাধবদী পৌরসভা ছাড়াও নূরালাপুর, কাঠালিয়া, পাইকারচর, চরদিঘলদী, মহিষাশুরা, আমদিয়া পাঁচদোনা ইউনিয়ন নিয়ে হচ্ছে নতুন থানা। যার জনসংখ্যা তিন লাখ ১০ হাজার ৯৯৪ জন।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের সবেচেয়ে বড় পাইকারি কাপড়ের বাজার বাবুরহাট। ওই হাটকে কেন্দ্র করেই মাধবদীতে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার শিল্প-প্রতিষ্ঠান। যার অধিকাংশ বাণিজ্যিক লেনদেন হয় মাধবদীতে। মূলত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহাবস্থান সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নিমূলে কঠোর ভূমিকাই মাধবদীকে বস্ত্র নগরী হতে সহায়তা করে।

এই অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ১৯৯২ সাল থেকে মাধবদীকে থানা ঘোষণার দাবি জানায়। নিজেদের দাবির পক্ষে জনমত গঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা আওামী লীগের সভাপতি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হীরু (বীর প্রতিক) মাধবদীকে থানায় উন্নীতকরণের অঙ্গিকার করেন।

সদ্য সমাপ্ত হওয়ায় পৌরসভা নির্বাচনেও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাধবদীর পৌরসভার মেয়র মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিক একই অঙ্গিকার করেন। দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের ব্যবধানেই মাধবদীকে থানায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হলো।

এদিকে, মাধবদীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণ হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে আনন্দ মিছিল বের করেন শহর আওয়ামী লীগ। মিছিলটি পৌরসভা থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকঘরের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপস্থিত সকলকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

থানা ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মাধবদী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জজ ভূঞা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ফায়জুর রহমান ভূঞা জুয়েল বলেন, মাধবদীকে থানা ঘোষণা করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। কারণ এটা এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ ২৪ বছরের প্রাণের দাবি ছিল। নবগঠিত থানা এই এলাকার শিল্প-কারখানার নিরাপত্তা আরো জোরদার করবে। যার মাধ্যমে বিকশিত হবে ব্যবসা-বাণিজ্য।

মাধবদী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পর এই দাবি পূরণ করায় আমরা প্রধানমন্ত্রী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায়।

মাধবদী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ দিলীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, শিল্প এলাকা মাধবদীর আইন-শৃঙ্খলার জন্য থানাটি অত্যাধিক জরুরি ছিল। নবগঠিত থানা মাধবদীর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা আশাবাদী।

মাধবদী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র হাজী মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিক বলেন, মাধবদীকে থানায় উন্নীতকরণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হীরুর বিজয়। এজন্য মাধবদী পৌরবাসীর পক্ষ থেকে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এর ফলে সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তা পেতে ভোগান্তি কমবে। যা মাধবদীর শিল্পবান্ধবের ঐতিহ্য আরো প্রসারিত করবে।

পুলিশ সুপার আমেনা বেগম (বিপিএম) বলেন, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর একটি পৌরসভা সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে মাধবদী তদন্ত কেন্দ্রকে সরকার থানায় উন্নীতকরণের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই থানার জনবল পদায়ন অবকাঠামো নির্মাণে উদ্যোগ নেয়া হবে।

মাধবদী শ্রমঘন বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এর গুরুত্ব অধিক। নতুন থানার ফলে দূরবর্তী স্থানগুলোতে দ্রুত নিরাপত্তা আইনগত সহায়তা প্রদান সম্ভব হবে

নরসিংদীর উত্তাল মেঘনায় আনন্দের নৌকা বাইচ

উৎসব মূখর পরিবেশে নরসিংদীর মেঘনা নদীতে হয়ে গেল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগীতা। বাঙালিদের জীবনে এক সময়ের আনন্দের মাধ্যম এ নৌকাবাইচ দেখতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে উত্তাল মেঘনা নদীর তীরে ভীড় জমায় নারী পুরুষসহ হাজারো মানুষ। নৌকাবাইচ উপলক্ষে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। নেচে গেয়ে মন মাতান দর্শক ও শুভানুউদ্ধায়ীরা।
১১ অক্টোবর, শনিবার বিকেলে শেরেবাংলা ক্লাবের উদ্যোগে নাহার জুট ট্রেডিং এর পৃষ্ঠপোষকতায় এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগীতায় নরসিংদী, বেলাবো,ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও কিশোরগঞ্জের ২৫ জন মাঝি ৫ ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়। নৌকাবাইচ খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. কর্ণেল (অব.) নজরুল ইসলাম হীরু।
নৌকাবাইচকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই নদীতীরে ভীড় করে হাজারো মানুষ। বাধসাধে অঝোর ধারার বৃষ্টি। কিন্তু বৃষ্টি দাবাতে পারেনি আনন্দ-উল্লাস। বৃষ্টি উপেক্ষা করে নৌকা বাইচ দেখতে নরসিংদী শহর ও পাশ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে শহর রক্ষা বাঁধে ভীড় জমায় নানা বয়সের নারী-পুরুষ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাজারো দর্শনার্থী শহর রক্ষা বাঁধের পাশাপাশি ইঞ্জিনবাহী নৌকা ও স্প্রিড বোর্ড নিয়ে নদীতে ছড়িয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।
নৌকাগুলোতে দর্শনার্থীরা বাড়তি আনন্দের জন্য বাদযন্ত্রের পাশাপাশি সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা করে। নেঁচে-গেয়ে সকলে উপভোগ করে নৌকা বাইচ। একই সঙ্গে প্রতিযোগীতা উপলক্ষে বাইচের নৌকাগুলোকে বর্নিল সাজে সাজানো হয়। নৌকার পাশাপাশি মাল্লারাও সেজেছিলেন বিভিন্ন সাজে। খোল, করতাল, কাশি, মন্দিরা, ঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে প্রতিযোগিতার নৌকায় ছিল গায়ক দল। শব্দের ছন্দে নদীর জলরাশি কেটে যখন বাইচের নৌকাগুলো এগিয়ে যাওয়ার অদম্য প্রচেষ্টা চালায় তখন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত সকলের মাঝে।
প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারী ২৫টি নৌকাগুলো ৫টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়। গ্রুপ পর্যায়ে বিজয়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় চুড়ান্ত রাউন্ডের প্রতিযোগীতা। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের ওসমান মিয়ার দল প্রতিযোগীতায় প্রথম হয়ে একটি ২১ ইঞ্চি রঙ্গিন টেলিভিশন ও নগদ ৩০ হাজার টাকা জিতে নেয়। নৌকাবাইচে অংশ নেয়া প্রত্যেক দলকে দেয়া হয়েছে সান্তনা পুরস্কার।
প্রতিযোগীতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. কর্ণেল (অব.) নজরুল ইসলাম হীরু। শেরে বাংলা ক্লাবের সভাপতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কায়কোবাদ হোসেনের সভাপতিত্বে নৌকা বাইচে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আসাদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শাহ নেওয়াজ খালেদ ও নাহার জুট ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক আহমেদ প্রমুখ। আগামী প্রযন্মের কাছে বাংলার ঐতিহ্য ও দেশীয় সংস্কৃতির বীজ বুনন করতে প্রতিবছর ঈদপুনর্মিলনী আয়োজন করা হয়।

নরসিংদীতে অবৈধ দখলে ব্রহ্মপুত্র নদ
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তীরঘেঁষে নরসিংদী জেলার মাধবদী-পাঁচদোনা এলাকা দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদ। এ নদ অবৈধভাবে দখল করে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা, দোকানপাট, বাড়ি-ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভূমিদস্যুরা যেন নদীটি অবৈধ দখলে নেয়ার মিশনে নেমেছে।
জানা গেছে, ব্র্রহ্মপুত্র নদের নুরালাপুর ইউনিয়নের রংপুর বাজার পয়েন্ট থেকে আলগী, গদাইরচর হয়ে আনন্দী, ছোট গদাইচর, শেখের চর, পাঁচদোনা, শিলমান্দী, চর্নগরদী, দগরিয়া, চরসিন্দুর, লাকপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত এ দখল চলছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। অন্যদিকে শত শত শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে মাধবদী অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র নদের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। পানিদূষণের ফলে নদের পাড়ে থাকা মানুষ দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিষাক্ত বর্জ্যে ও গ্যাসে ব্যাহত হচ্ছে আশপাশের কয়েকশ বিঘা জমির চাষাবাদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাধবদী এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদীর শাখা। মাধবদীর পৌর এলাকায় ছোট-বড় মিলে ১০০টি প্রতিষ্ঠান নদের ওপর প্রায় ২০০ ফুট লম্বা করে দেয়াল স্টেট নির্মাণ করে প্রায় ৩০ ফুট জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। এর পার্শ্ববর্তী শেখের চর বাবুর হাটে অসংখ্য দোকানপাট নির্মাণ করে হাজার হাজার টাকায় ভাড়া দিচ্ছে এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। নদের একটি বিশাল জায়গা দখল করে পাকিজা মিল তৈরি করে নদীর গতি পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া মাধবদীর সোনার বাংলা মার্কেটের নদের তীরবর্তী জায়গা দখল করে গাইড ওয়াল দিয়ে দোকান নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাধবদী এলাকার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা নদের তীরবর্তী জায়গায় মিল-কারখানা নির্মাণ করে দখল করে নিয়েছে। এছাড়া আরো অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কৌশলে ব্রহ্মপুত্র নদের জায়গা দখল করেছে। তারা নতুন করে আরো বিভিন্ন মহল জমি দখলে নেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের পাশেই গড়ে ওঠা আলগী বাজার ক্ষুদ্র পিঠা ব্যবসায়ী হবিউল্লা হবি (৮০) জানান, ব্রহ্মপুত্র নদীর শাখা মাধবদী এলাকা দিয়ে এক সময় বড় বড় লঞ্চ চলাচল করত এবং গয়না নৌকার ঘণ্টার শব্দে নদী পাড়ের মানুষের ঘুম ভাঙত। কিন্তু অবৈধ দখলদারদের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ আজ সরু খালে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণ হওয়ায় দখলদারদের সুবিধা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিষাক্ত বর্জ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি দূষিত হয়ে পড়ছে।
এ ব্যাপারে নরসিংদী সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে কিনা তা তদন্তপূর্বক চিহ্নিত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট তহশিলদারকে এরই মধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রিপোর্টটি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নরসিংদীতে ঈদের বাজার জমে উঠেছে

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ। দুটি ঈদের মধ্যে একটি হলো ঈদুল ফিতর। আর সেই ঈদুল ফিতর সমাগত। ইতি মধ্যে ঈদকে ঘিরে নরসিংদীর সব কয়টি উপজেলার হাট বাজারে কেনাকাটার ধুম পড়ে গেছে। এবারের ঈদে বিক্রির শীর্ষে রয়েছে মেয়েদের পাখি জামা। এই পাখি জামার রয়েছে বিভিন্ন প্রকার ভেদ। প্রতিটি জামা ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অতএব গরীব মানুষের পক্ষে পাখি জামা কেনা সম্ভব হচ্ছে না। নরসিংদী জেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জমকালো আলোকসজ্জা নেই। নেই লোভনীয় র‌্যাফেল ড্র কিংবা আরামদায়ক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। তবু সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ ঈদ কেনাকাটার জন্য বেছে নিচ্ছেন ফুটপাতের দোকানগুলোকে। সবই মিলবে এখানে। হাল ফ্যাশনের থ্রিপিস, পাঞ্জাবী, শার্ট-প্যান্ট, প্রসাধনী ও সুগন্ধি সব। দামও নাগালের মধ্যে ফলে ধনী ও মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি কেনাকাটায় পিছিয়ে নেই নিম্নবিত্তের মানুষও বিলাসবহুল শপিংমলগুলো যখন উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের ভিড়ে সরগরম, তখন ফুটপাতের দোকানগুলোই নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের প্রধান অবলম্বন। তাদের টার্গেট করেই রাস্তার দুপাশে ফুটপাতের ওপর দোকানিরা নানারকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। ফুটপাত ছাড়াও এসব এলাকাতে বসেছে অস্থায়ী দোকনপাট। গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুপাশে কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। উভয় পাশের ফুটপাতে দুসারি করে বসানো হয়েছে দোকান। এক বছরের শিশু কোলে নেয়া মা থেকে ষাটোর্ধ্বরাও ঘোরাফেরা করেছেন ফুটপাতের দোকনে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও স্বতঃস্ফুর্ত বিচরণ দেখা গেল সেখানে। দোকানিরা জানান, ফুটপাতের এসব দোকানে নিত্য ব্যবহার্য প্রায় সব কিছুই পাওয়া যায়। ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, প্যান্ট, বেল্ট, লুঙ্গি, টুপি, সুগন্ধি থেকে শুরু করে মেয়েদের শাড়ি, থ্রি-পিস, টু-পিস, সিঙ্গেল কামিজ, রেডিমেট কামিজ, টপস, টাইটস, গজ কাপড়, বিভিন্ন ধরনের অর্নামেন্টস, বাচ্চাদের পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, ফ্রক, স্কার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি, নারী-পুরুষের বিভিন্ন ধরনের ইনার, বড়-ছোট সকলের জুতা, স্যান্ডেল, চশমা কি নেই এসব দোকানে। তারা আরও জানান, এখানে ছেলেদের পাঞ্জাবি ৪০০ থেকে ১৬০০টাকা, প্যান্ট ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, শার্ট ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, টি-শার্ট ১২০ থেকে ৩০০ টাকা, ফতুয়া ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মেয়েদের শাড়ি ৩০০ থেকে ১৫০০টাকা, থ্রি-পিস ৩০০ থেকে ৪৫০টাকায়, টপস ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা, গজ কাপড় ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, রেডিমেট কামিজ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাচ্চাদের পাঞ্জাবি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, প্যান্ট ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, শার্ট ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ফ্রক ১১০ থেকে ২৪০ টাকা, টাইটস ৭০ থেকে ১২০ টাকা, গেঞ্জি ৬০ থেকে ১৮০ টাকা, সব ধরনের স্যান্ডেল ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পণ্যে মান যেমনই হোক সস্তায় কিনতে পেরে খুশি অনেকে। ফুটপাতে ছোট ছোট দোকানের জিনিসপত্রগুলো মোটেও খারাপ নয়। দেখতে সুন্দর দামেও তুলনামূলকভাবে সস্তা। তবে দেখেশুনে না কিনলে দোকানি নিম্নমানের পণ্য গছিয়ে দিতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে একটু সতর্ক হয়ে কেনাকাটা করলে এড়ানো যাবে অনাকাঙ্খিত ঝামেলা। অপেক্ষাকৃত কম দাম বলে সাধারণত সারা বছরই এখানে মানুষের আনাগোনা থাকে। আর ঈদকে সামনে রেখে এখানকার দোকানিদের দম ফেলার অবসর নেই। সামনের ফুটপাতের একটি দোকানে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করছিলেন বাস কণ্ট্রাক্টর মোঃ শাহাজালাল। তিনি বলেন, বড় শপিংমলে যেয়ে কেনাকাটা করার সামর্থ্য আমাদের নেই। তাই এখান থেকেই ঈদের কেনাকাটা করি। এছাড়া এখানে কম দামে পছন্দের জিনিস পাওয়া যায়। আর এসব জিনিসের মানও ভালো। তবে ঈদের আগে পণ্যের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেল। পেশায় ড্রাইভার মোঃ মাসুম বলে, কিছুদিন আগেও যেসব টি-শার্ট ১৫০ টাকায় কিনেছেন, এখন তার দাম রাখা হচ্ছে ২৫০ টাকা। সামনে গজ কাপড় কিনতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বেবী নাজনিন বলেন, ভিতরের দোকানগুলোতে দাম বেশি। তাই বাইরের দোকাগুলো থেকে কেনাকাটা করছি। এখানে দাম কম এবং কাপড়ের মানও ভালো। রোজার প্রায় অর্ধেক হয়ে গেলেও এখনো বিকিকিনি মোটামুটি পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। ঈদ যত এগিয়ে আসবে ক্রেতাদের সমাগম তত বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। মোঃ জাকির হোসেন নামের একজন বিক্রেতারা বলেন, কয়েকদিন পর মানুষ ঈদের বেতন-বোনাস পাবে। তখন বিক্রি আরও বাড়বে।

নরসিংদী পৌরসভার বাজেট ঘোষণা

২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের বাজেটত্তোর সংবাদ সম্মেলন ও ইফতার মাহফিল এর আয়োজন করেছে নরসিংদী পৌরসভা। সোমাবার নরসিংদী পৌর মিলনায়তনে পৌর মেয়র কামরুজ্জামান এ বাজেট পেশ করেন।বাজেট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু (বীরপ্রতীক)। সংবাদ সম্মেলনে পৌর মেয়র কামরুজ্জামান ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের জন্য আটষট্টি কোটি তিরানব্বই লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার বিশ টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন।

রসিংদীর বিশিষ্ট নাগরিকরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন । বিশেষ অতিথিদের মধ্যে মনোহরদী বেলাব থেকে নির্বাচিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এড. নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোস্তফা জামান, পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম, নরসিংদী -২ পলাশের সাবেক সংসদ সদস্য ড: আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলিপ,  জহিরুল হক ভূঞা মোহন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ভূঞা ও জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নরসিংদীতে ইতিহাস সমৃদ্ধির পথে নতুন যুগের সূচনা : দেড় হাজার বছরের পুরনো বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান - See more at: http://www.manobkantha.com/2014/07/21/183045.html#sthash.LItjsfyG.dpuf
নরসিংদীতে ইতিহাস সমৃদ্ধির পথে নতুন যুগের সূচনা : দেড় হাজার বছরের পুরনো বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান - See more at: http://www.manobkantha.com/2014/07/21/183045.html#sthash.LItjsfyG.dpuf

নরসিংদীতে ইতিহাস সমৃদ্ধির পথে নতুন যুগের সূচনা : দেড় হাজার বছরের পুরনো বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান

নরসিংদীতে আমাদের ইতিহাস সমৃদ্ধির পথে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গনগরী উয়ারী-বটেশ্বরে নতুন করে একটি বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান পাওয়া গেছে। যার আনুমানিক বয়স দেড় হাজার বছর বলে ধারণা করছেন গবেষকরা। এর ফলে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শেকড় সন্ধানে গবেষকরা সমৃদ্ধির পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর খনন এলাকার শিবপুর উপজেলার টঙ্গীরটেকের এলাকায় বৌদ্ধ মন্দিরটি উোচন করা হয়। গবেষকরা ধারণা করছেন, নতুন করে সন্ধান পাওয়া এ মন্দিরটি দেড় হাজার বছর পূর্বের। উয়ারী-বটেশ্বরে সমসাময়িক আরো বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মন্দির ও স্থাপনা আবিষ্কার হওয়ায় বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের আদি বসবাসে উয়ারী-বটেশ্বর যুক্ত হবে বলে মতো দিয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। একই সঙ্গে মন্দির এলাকা থেকে সমসাময়িক সময়ের বীজ ও পরাগ রেণু সংগ্রহ করেছেন গবেষকরা। এর ফলে এক হাজার দুইশ বছর পূর্বের শস্যের বৈশিষ্ট্য, ধরন, মানুষের খাদ্যাভাস এবং পরিবেশ সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে। যা বাংলাদেশের জন্য একটি বিরল অর্জন হবে। উৎখনন কাজের দলনেতা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন। উৎখনন কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, টঙ্গীরটেক বৌদ্ধ মন্দিরটি উয়ারী-বটেশ্বরের মূল প্রত্ন এলাকা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। নতুন বৌদ্ধ মন্দিরটি আবিষ্কারে খনন কাজে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।  একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে এনেছে এই নতুন আবিষ্কার। এর আগে ২০১১ সালে উক্ত স্থানে একটি স্থাপত্য রয়েছে বলে নিশ্চিত হয় উৎখনন দল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে খনন করে মন্দিরের গর্ভগৃহ পাওয়া যায়। চলতি বছরে মন্দিরের এক-চতুর্থাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ বছরের খননে মন্দিরটি দৃশ্যমান হয়েছে।
স্থাপনাটি বৌদ্ধ মন্দির হিসেবে চিহ্নিত করার কারণ হচ্ছে এটির মধ্যে গর্ভগৃহ রয়েছে। একই সঙ্গে একটি বারান্দা ও মণ্ডপ রয়েছে। যেগুলো মন্দিরের আনুষঙ্গিক অঙ্গ। গর্ভগৃহের চারটি দেয়ালই পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে আট ফিট দেয়াল এখনো টিকে রয়েছে। গর্ভগৃহের পাশেই রয়েছে প্রদক্ষিণ পথ। তাই বাইরেই রয়েছে মন্দিরের মূল দেয়াল। ৫০ ফুট বর্গাকার বৌদ্ধমন্দিরটির দেয়াল দেড় মিটার প্রশস্ত। কাদামাটির গাঁথুনির দেয়ালের ভিত্তি তিন ধাপে প্রক্ষিপ্ত। মূল দেয়ালের চারদিকে ইট বিছানো প্রদক্ষিণ পথ রয়েছে। মূল মন্দিরের ৪০ মিটার দূরে প্রতিরক্ষা দেয়াল রয়েছে। মন্দিরের শুধু উত্তর দিকের দেয়ালের অংশটি উোচন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মন্দির এলাকা থেকে সমসাময়িক সময়ের বীজ ও পরাগ রেণু সংগ্রহ করেছেন গবেষকরা।
বাংলাদেশের সমতট (কুমিল্লা) এবং পুন্ড্রবর্ধন জনপদে (বগুড়া, নওগাঁ ও দিনাজপুর) বৌদ্ধ বিহার, মন্দির ও স্তূপ আবিষ্কৃত হলেও মন্দিরভিটা, ধুপিরটেক ও টঙ্গীরটেকে আবিষ্কৃত বৌদ্ধ মন্দিরটি উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলে প্রথম (মধুপুর গড় অঞ্চলে) বৌদ্ধ সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাক্ষ্য বহন করছে।
সরেজমিনে টঙ্গীরটেক বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী পরম যতে মাটি খুঁড়ে বের করে আনছেন আমাদের ইতিহাস। তীব্র রোদও তাদের উদ্যোম থামাতে পারেনি। এক একটি নতুন প্রত্নবস্তু প্রাপ্তি ভুলিয়ে দিচ্ছে তাদের সব কষ্ট। শিক্ষার্থীদের কাজ তদারকি করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান।
খনন কাজে অংশ নেয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের স্মাতকোত্তরের ছাত্রী নুসরাত জাহান কানন বলেন, গত বছরের জুন থেকে আমরা ৫০ জন শিক্ষার্থী সুফি স্যারের নেতৃত্বে এই স্থানে খনন শুরু করি। উৎখনন কাজের উপনেতা মাহবুবুল আলম হিমেল বলেন, বৌদ্ধ মন্দিরটি প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বের। একই উপজেলার আশ্রাফপুরে একটি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে। সেখানে চারটি বিহার ও বিহারিকার কথা বলা হয়েছে। আমাদের ধারণা এটি তারই সমসাময়িক বৌদ্ধ মন্দির। এখানেও বিহার থাকতে পারে। আমরা এর সন্ধান করছি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মিজানুর রহমান বলেন, পরাগ রেণু স্যাঁতসেঁতে এলাকায় লাখ লাখ বছর বেঁচে থাকতে পারে। টঙ্গীরটেক বৌদ্ধ মন্দির থেকেই প্রথমবারের মতো আমরা সমসাময়িক বীজ ও পরাগরেণু সংগ্রহ করেছি। বর্তমানে তার অঙ্গসংস্থানিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষের জীবন ধারণের জন্য যে সব জিনিস ব্যবহার করা হয় তা আসে উদ্ভিদ থেকে। সংগ্রহকৃত বস্তুর গবেষণার মাধ্যমে ওই সময়ের মানুষের খাদ্যাভাস, উদ্ভিদ ও পরিবেশ সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে। যা বাংলাদেশের জন্য একটি বিরল অর্জন হবে।
ঐতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রত্নতত্ত্ব শুধু স্থাপত্য, শিল্প কিংবা ইতিহাস নয়, এটা পরিবেশ ও আমাদের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়। তাই বৌদ্ধ মন্দিরের পাশাপাশি বীজ ও পরাগ রেণু নিয়ে গবেষণা আমাদের দেশের জন্য একটি মাইলফলক হবে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে মন্দিরটির মাত্র চার ভাগের এক অংশের খননকাজ সমাপ্ত হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে এর পুরো বৈশিষ্ট্য উোচিত হবে। - See more at: http://www.manobkantha.com/2014/07/21/183045.html#sthash.LItjsfyG.dpuf

নরসিংদীতে আমাদের ইতিহাস সমৃদ্ধির পথে নতুন যুগের সূচনা হয়েছেআড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গনগরী উয়ারী-বটেশ্বরে নতুন করে একটি বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান পাওয়া গেছেযার আনুমানিক বয়স দেড় হাজার বছর বলে ধারণা করছেন গবেষকরাএর ফলে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শেকড় সন্ধানে গবেষকরা সমৃদ্ধির পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে
সম্প্রতি নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর খনন এলাকার শিবপুর উপজেলার টঙ্গীরটেকের এলাকায় বৌদ্ধ মন্দিরটি উাচন করা হয় গবেষকরা ধারণা করছেন, নতুন করে সন্ধান পাওয়া এ মন্দিরটি দেড় হাজার বছর পূর্বের উয়ারী-বটেশ্বরে সমসাময়িক আরো বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মন্দির ও স্থাপনা আবিষ্কার হওয়ায় বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের আদি বসবাসে উয়ারী-বটেশ্বর যুক্ত হবে বলে মতো দিয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরাএকই সঙ্গে মন্দির এলাকা থেকে সমসাময়িক সময়ের বীজ ও পরাগ রেণু সংগ্রহ করেছেন গবেষকরাএর ফলে এক হাজার দুইশ বছর পূর্বের শস্যের বৈশিষ্ট্য, ধরন, মানুষের খাদ্যাভাস এবং পরিবেশ সম্পর্কে জানা সম্ভব হবেযা বাংলাদেশের জন্য একটি বিরল অর্জন হবেউৎখনন কাজের দলনেতা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেনউৎখনন কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, টঙ্গীরটেক বৌদ্ধ মন্দিরটি উয়ারী-বটেশ্বরের মূল প্রত্ন এলাকা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত নতুন বৌদ্ধ মন্দিরটি আবিষ্কারে খনন কাজে নতুন মাত্রা যোগ করেছে  একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে এনেছে এই নতুন আবিষ্কারএর আগে ২০১১ সালে উক্ত স্থানে একটি স্থাপত্য রয়েছে বলে নিশ্চিত হয় উৎখনন দল এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে খনন করে মন্দিরের গর্ভগৃহ পাওয়া যায়চলতি বছরে মন্দিরের এক-চতুর্থাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছেতবে এ বছরের খননে মন্দিরটি দৃশ্যমান হয়েছে
স্থাপনাটি বৌদ্ধ মন্দির হিসেবে চিহ্নিত করার কারণ হচ্ছে এটির মধ্যে গর্ভগৃহ রয়েছেএকই সঙ্গে একটি বারান্দা ও মণ্ডপ রয়েছে যেগুলো মন্দিরের আনুষঙ্গিক অঙ্গগর্ভগৃহের চারটি দেয়ালই পাওয়া গেছে একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে আট ফিট দেয়াল এখনো টিকে রয়েছে গর্ভগৃহের পাশেই রয়েছে প্রদক্ষিণ পথতাই বাইরেই রয়েছে মন্দিরের মূল দেয়াল ৫০ ফুট বর্গাকার বৌদ্ধমন্দিরটির দেয়াল দেড় মিটার প্রশস্তকাদামাটির গাঁথুনির দেয়ালের ভিত্তি তিন ধাপে প্রক্ষিপ্তমূল দেয়ালের চারদিকে ইট বিছানো প্রদক্ষিণ পথ রয়েছেমূল মন্দিরের ৪০ মিটার দূরে প্রতিরক্ষা দেয়াল রয়েছেমন্দিরের শুধু উত্তর দিকের দেয়ালের অংশটি উাচন করা হয়েছে একই সঙ্গে মন্দির এলাকা থেকে সমসাময়িক সময়ের বীজ ও পরাগ রেণু সংগ্রহ করেছেন গবেষকরা
বাংলাদেশের সমতট (কুমিল্লা) এবং পুন্ড্রবর্ধন জনপদে (বগুড়া, নওগাঁ ও দিনাজপুর) বৌদ্ধ বিহার, মন্দির ও স্তূপ আবিষ্কৃত হলেও মন্দিরভিটা, ধুপিরটেক ও টঙ্গীরটেকে আবিষ্কৃত বৌদ্ধ মন্দিরটি উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলে প্রথম (মধুপুর গড় অঞ্চলে) বৌদ্ধ সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাক্ষ্য বহন করছে
সরেজমিনে টঙ্গীরটেক বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী পরম যতে মাটি খুঁড়ে বের করে আনছেন আমাদের ইতিহাসতীব্র রোদও তাদের উদ্যোম থামাতে পারেনিএক একটি নতুন প্রত্নবস্তু প্রাপ্তি ভুলিয়ে দিচ্ছে তাদের সব কষ্ট শিক্ষার্থীদের কাজ তদারকি করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান
খনন কাজে অংশ নেয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের স্মাতকোত্তরের ছাত্রী নুসরাত জাহান কানন বলেন, গত বছরের জুন থেকে আমরা ৫০ জন শিক্ষার্থী সুফি স্যারের নেতৃত্বে এই স্থানে খনন শুরু করি উৎখনন কাজের উপনেতা মাহবুবুল আলম হিমেল বলেন, বৌদ্ধ মন্দিরটি প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বেরএকই উপজেলার আশ্রাফপুরে একটি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে সেখানে চারটি বিহার ও বিহারিকার কথা বলা হয়েছেআমাদের ধারণা এটি তারই সমসাময়িক বৌদ্ধ মন্দিরএখানেও বিহার থাকতে পারেআমরা এর সন্ধান করছি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মিজানুর রহমান বলেন, পরাগ রেণু স্যাঁতসেঁতে এলাকায় লাখ লাখ বছর বেঁচে থাকতে পারেটঙ্গীরটেক বৌদ্ধ মন্দির থেকেই প্রথমবারের মতো আমরা সমসাময়িক বীজ ও পরাগরেণু সংগ্রহ করেছি বর্তমানে তার অঙ্গসংস্থানিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে তিনি বলেন, মানুষের জীবন ধারণের জন্য যে সব জিনিস ব্যবহার করা হয় তা আসে উদ্ভিদ থেকে সংগ্রহকৃত বস্তুর গবেষণার মাধ্যমে ওই সময়ের মানুষের খাদ্যাভাস, উদ্ভিদ ও পরিবেশ সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে যা বাংলাদেশের জন্য একটি বিরল অর্জন হবে
ঐতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রত্নতত্ত্ব শুধু স্থাপত্য, শিল্প কিংবা ইতিহাস নয়, এটা পরিবেশ ও আমাদের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়তাই বৌদ্ধ মন্দিরের পাশাপাশি বীজ ও পরাগ রেণু নিয়ে গবেষণা আমাদের দেশের জন্য একটি মাইলফলক হবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে মন্দিরটির মাত্র চার ভাগের এক অংশের খননকাজ সমাপ্ত হয়েছে পুরো কাজ শেষ হলে এর পুরো বৈশিষ্ট্য াচিত হবে

নরসিংদীতে তাঁত পল্লীতে ব্যস্ততা

নরসিংদীতে তাঁত শিল্পের পত্তন হয় শত বছর আগে। এ শিল্পের হাত ধরেই নরসিংদী খ্যাতি অর্জন করেছে শিল্প নগরী হিসেবে। স্বাধীনতার পর জেলার এ তাঁত শিল্প আধুনিকতার ছোঁয়ায় এগিয়েছে অনেক পথ। বর্তমানে পোশাক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ শাখা টেঙ্টাইল, ডাইং, প্রিন্টিং, নিটিং ক্ষেত্রে নরসিংদীর অবস্থান সুদৃঢ়। দেশের বাইরেও এ জেলায় তৈরি কাপড়ের খ্যাতি ছড়িয়েছে। এখানকার তাঁতের শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিসসহ বিভিন্ন পোশাকের চাহিদা দেশসহ বিদেশেও রয়েছে। স্বল্প মূল্য ও নিখুঁত বুননের জন্য এ অঞ্চলে তৈরি পোশাকের কদর সর্বত্র। উৎপাদিত পণ্যকে ঘিরে সদর উপজেলার সেকেরচরে গড়ে উঠেছে বড় পাইকারি কাপড়ের হাট। তাঁত পল্লীর এসব কাপড় ও পোশাক স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বড় বড় বিপণিবিতানে।

তাঁতিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বসাক সম্প্রদায়ের তাঁতিরাই হচ্ছেন আদি তাঁতি। প্রায় শত বছর আগে আদি বসাক সমপ্রদায়ের তাঁতিরাই হস্তচালিত তাঁতের কাজ শুরু করেন। এরা সিন্ধু অববাহিকা থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে এসে প্রথমে তাঁতের কাজ করেন। সেখানকার আবহাওয়ায় কাপড়ের মান ভালো না হওয়ায় তারা নতুন জায়গার সন্ধান করতে গিয়ে চলে আসেন রাজশাহীতে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তারা দুই দলে ভাগ হয়ে একদল চলে আসেন নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, অন্য দল ঢাকার ধামরাইয়ে। তবে এদের কিছু অংশ সিল্কের কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজশাহীতেই থেকে যান। নরসিংদীর হাসনাবাদ, আমিরগঞ্জ, চরসুবুদ্দি, হাইরমারা, নিলক্ষা, নলবাটা, কাট্টাখালি, মনিপুরা, সাটিরপাড়া, রাঙ্গামাটি, হাজিপুর, ঘোড়াদিয়া, করিমপুর, নজরপুর, চম্পকনগর, বাবুরহাট (শেখেরচর), মাধবদী, কৌলানপুর, ভাটপাড়া, ভগিরতপুর ঘোড়াশাল, ডাঙ্গা পাইকশা এলাকাগুলো ছিল হস্তচালিত তাঁতের জন্য বিখ্যাত। হস্তচালিত ও বিদুৎচালিত মিলিয়ে জেলায় তিন লক্ষাধিক তাঁত কল রয়েছে। এসব তাঁতে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিস, গামছা, বিছানার চাদর, পর্দার কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় উৎপাদিত হয়।

নরসিংদীতে লটকন চাষে স্বাবলম্বী কৃষক

নরসিংদীতে লটকন চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন অনেক চাষী। লাভজনক হওয়ায় চাষীদের মধ্যে ফলটির বাণিজ্যিক চাষে উত্সাহ বাড়ছে। প্রতি বছরই নতুন নতুন বাগান তৈরি হচ্ছে। জেলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের লাল মাটি এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত মণ লটকন যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
দেশব্যাপী সুপরিচিত নরসিংদীর লটকন এখন বিভিন্ন দেশে রফতানিও হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাজ্যে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো ফলটি রফতানি হচ্ছে। এর প্রধান ক্রেতা প্রবাসী বাংলাদেশীরা। মানভেদে লটকন ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি হয়। খুচরা দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। পাইকাররা বাগান থেকেই লটকন কিনে নিয়ে যান।
জেলার ছয় উপজেলার চারটিতে কমবেশি লটকন চাষ হয়। তবে শিবপুরে চাষ হয় সবচেয়ে বেশি। এ উপজেলায় চাষকৃত জমির পরিমাণ প্রায় ৪০০ হেক্টর। এর পরই রয়েছে বেলাবো উপজেলার অবস্থান। এখানে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। এছাড়া রায়পুরা উপজেলার মরজাল ও মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে অন্তত ৫০ হেক্টর জমিতে লটকনের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। একটি ১০ বছর বয়সী লটকন গাছে গড়ে প্রায় ২০০ কেজি লটকন ধরে। ফল হিসেবে লটকন খাদ্যমানে ভরপুর। এটি ক্যালসিয়াম, ক্যারোটিন ও খনিজ লবণসমৃদ্ধ।
ঢাকা থেকে আসা পাইকারি লটকন ব্যবসায়ী রহমত আলী জানান, মানুষ লটকন খেতে পছন্দ করে। ফলে ফলটির চাহিদা প্রচুর।
নরসিংদী জেলা কৃষি অফিসের উপপরিচালক সুভাষ চন্দ্র গাইন জানান, প্রতি বছরই এ জেলায় লটকনের চাষ বাড়ছে। এসব এলাকার মাটি লটকন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। খরচ কম, ফলন বেশি। এখন এ লটকন মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।

নরসিংদীতে জলডুগি আনারসের বাম্পার ফলন

নরসিংদীতে প্রায় সব ধরনের দেশী ফল উত্পন্ন হলেও দেশজুড়ে জেলায় উৎপাদিত জলডুগি আনারসের খ্যাতি রয়েছে। এ আনারস আকারে ছোট হলেও স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। জেলার প্রায় সব উপজেলায় চাষ হওয়া এ আনারস খেতে সুস্বাদু ও সুমিষ্ট।
শিবপুর ও বেলাব উপজেলায় কমবেশি উৎপাদন হলেও জেলার উৎপাদিত আনারসের ৯০ শতাংশই আবাদ হয় পলাশে। এখানকার পাহাড়ি লালমাটি অধ্যুষিত এলাকায় জলডুগি আনারস বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হয়। উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের রাবান, বরার, সাতটেকিয়া ও কুরাইতলী এলাকায় জলডুগির বাণিজ্যিক চাষে কয়েকশ চাষী এরই মধ্যে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ বছর নরসিংদী জেলায় ১ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষাবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে একরপ্রতি প্রায় এক হাজার চারা রোপণ করে চাষীরা প্রতি বিঘায় ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার আনারস পেয়েছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, পলাশ উপজেলার জিনারদী, রাবান ও বরাব এলাকায় স্থানীয় কৃষকরা ছোট-বড় অসংখ্য বাগান গড়ে উন্নত জাতের আনারস বাজারে সরবরাহ ও বাজারজাত করছেন। বাড়ির আঙিনায়ও আনারস চাষ করে অনেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।
পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের বরাব গ্রামের চাষী প্রমোদ দে জানান, চলতি মৌসুমে আনারসের ফলন ভালো হয়েছে। রাবান এলাকার অন্য এক চাষী সুশীল সরকার জানান, এ বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে চাষ করে প্রায় ১ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করেছেন, আরো ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান। একই এলাকার চাষী পুলিন রায় বলেন, এ বছর আনারসের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। মোটামুটি সাইজের এক হালি আনারস জমিতেই ৬০-৭০ টাকা বিক্রি করতে পারছি।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শ্রী সুভাষ চন্দ্র গাইন জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের ফলে চলতি মৌসুমে আনারসের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে জলডুগি জাতের আনারসের ব্যাপক চাহিদার অন্যতম কারণ হচ্ছে এটি খেতে সুস্বাদু ও সুন্দর গন্ধযুক্ত।

শিগগিরই উন্মুক্ত হবে ওয়ারি-বটেশ্বর


উপযোগী পরিবেশ তৈরি হলেই আড়াই হাজার বছরের পুরনো প্রত্নঅঞ্চল নরসিংদীর ওয়ারি-বটেশ্বর উন্মুক্ত করা হবে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। পর্যটকদের দেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন এবং শিগগিরই তা শেষ হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী  ওয়ারি-বটেশ্বর অঞ্চলের টঙ্গীর টেক প্রত্নপীঠে ১৩ তম প্রত্নতাত্বিক খনন কাজের সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি জানান, মানুষের হাঁটা-চলায় যাতে প্রত্নস্থানটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার পরই অঞ্চলটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এর আগে মন্ত্রী প্রত্নঅঞ্চলের বিভিন্ন নিদর্শন ঘুরে দেখেন।

এসময় ঐতিহ্য অন্বেষণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নূর-উল-আলম লেনিনের সভাপতিত্বে নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান, ঐতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক ও জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান, স্থানীয় প্রত্নতাত্বিক সংগ্রাহক হাবিবুল্লাহ পাঠান উপস্থিত ছিলেন।

নরসিংদী প্রেসক্লাবের নির্বাচনে হাবিব সভাপতি ও মাখন দাস সম্পাদক নির্বাচিত

বহুল প্রত্যাশিত নরসিংদী প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ১১টি পদে জন্য ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এতে সভাপতি পদে বৈশখী টেলিভিশনের নরসিংদী প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হাবিব ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম পতিদ্বন্দ্বি সাপ্তাহিক নরসিংদী কাগজের সম্পাদক এম এ আউয়াল পেয়েছেন ১৭ ভোট। সহ-সভাপতি পদে দি ফ্রিনালসি এক্সপেসের নরসিংদী প্রতিনিধি বাদল কুমার সাহা ৩৮ ভোট ও আবুল ফায়েজ ৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আলোকিত বাংলাদেশের নরসিংদী প্রতিনিধি ফারুক আহম্মদ পেয়েছেন ১৭ ভোট।
সাধারন সম্পাদক পদে একুশে টেলিভিশনের মাখন দাস ২৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আরটিভির নরসিংদী প্রতিনিধি মোর্শেদ শাহরিয়ার পেয়েছেন ১৯ ভোট। সহ-সাধারন সম্পাদক পদে দৈনিক যায়যায় দিনের নরসিংদী প্রতিনিধি আমজাদ হোসেন ২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি দৈনিক নরসিংদীর বাণীর সম্পাদক ফারুক মিয়া পেয়েছেন ২২ ভোট।

কোষাধ্যক্ষ পদে দৈনিক আলোচনার সম্পাদক শফিকুল মোহাম্মদ মানিক ২৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি দৈনিক সময়ের মুক্তচিন্তার সম্পাদক জয়নুল আবেদীন পেয়েছেন ১৮ ভোট। সাহিত্য সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে দৈনিক সমকালের নরসিংদী প্রতিনিধি প্রীতিরঞ্জন সাহা ২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সাপ্তাহিক খোঁজখবরের সম্পাদক মন্জিল এ মিল্লাত পেয়েছেন ২৩ ভোট।
দপ্তর সম্পাদক পদে দৈনিক ডেসটিনির নরসিংদী প্রতিনিধি আবুল বাশার বাছির ৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটত প্রতিদ্বন্দ্বি নরসিংদী খবরের তোফাজ্জল হোসেন পেয়েছেন ১৮ ভোট।

কার্য-নির্বাহী সদস্য পদে দৈনিক প্রাইমের নরসিংদী প্রতিনিধি হলধর দাস ৩৪ ভোট, দৈনিক দিনকালের মোবারক হোসেন ৩১ ভোট ও দি বাংলাদেশ টুডের মশিউর রহমান সেলিম ২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলে। দীর্ঘদিন যাবত আহবায়ক কমিটি থাকার ফলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনে বাধা ছিল। অবশেষে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে ৪৯ জন সাংবাদিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচন কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন নরসিংদী সরকারী কলেজের অধ্যাপক এ বি এম আমীর হোসেন।

নরসিংদীতে উৎসব মুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ পালিত

নরসিংদীতে উৎসব মুখর পরিবেশে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখ ১৪২১ পালিত হয়েছে। নতুন বছরকে বরণ করতে বের করা হয় এক বর্ণঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে । এছাড়াও জেলার রায়পুরা,

ছবি- দীপ সাহা রানা

শিবপুর, মনোহরদী, বেলাব ও পলাশ উপজেলায়ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন পহেলা বৈশাখ পালন করছে।

বৈশাখ উপলক্ষে আনন্দঘন ও উৎসব মুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন করে উপজেলবাসী। জাতি ধর্ম বর্ণ নিবিশেষে এ নববর্ষ উদযাপন পরিণত হয়েছে র্সবজনিন উৎসবে। এলাকাবাসী মেতে উঠছে নতুন বছরকে বরণ করে নেবার আনন্দে। বৈশাখী শোভাযাত্রাসহ ঐতিহ্যবাহী পান্তা ইলিশ ভোজন আয়োজন ছিল  চত্বরে চত্বরে। এছাড়া উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে বৈশাখী মেলায় অস্থায়ী হোটেল রেস্তোরা গুলোতে আয়োজন করছে পান্তা ইলিশ পান্তা শুটকি মাছের ভর্তা আর পান্তা ভাত। এছাড়া বাংলা নববর্ষে প্রথম দিনে যেমন পান্তা খাওয়ার ধুম পড়ে যায় তেমনি যুক্ত হয় শিশু কিশোরদের নতুন কাপড় পরিধান।

নরসিংদীর ৩টি উপজেলা পরিষদের ফলাফল

 

ন র সিং দী স দ র
==========

নরসিংদী সদর উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর এলাহী চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন।
তার নিকটতম ছিলেন আওয়ামী লীগের তামান্না নুসরাত।

রা য় পু রা উ প জে লা
============

রায়পুরা উপজেলায়
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ফজলুর রহমান।

ম নো হ র দী উ প জে লা
=============

নরসিংদীর মনোহরদীতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম খান বীরু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ।
নিকটত প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সরদার মোয়াজ্জেম হোসেন।

 

নরসিংদী সরকারী কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান

নরসিংদী সরকারী কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবীতে মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে কলেজ শাখা ছাত্রদল। আজ সোমবার দুপুরে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও এজিএস শরীফ আহমেদের নেতৃত্বে কলেজ গেইট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কলেজের বিভিন্ন স্থান ঘুরে পুণরায় কলেজ গেইটে ফিরে আসে।
পরে নরসিংদী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু বক্কর সিদ্দিক এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ছাত্র-ছাত্রীদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়া, নবীন বরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হওয়া, কলেজের অবকাঠামোগত কাজ বাধাগ্রস্থ হওয়া থেকে বাচানোর লক্ষে নির্বাচনের দাবীতে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক বর্মন প্রিন্স, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি মো: মনিরুল ইসলাম, ছাত্র সংসদের বার্ষিকী সম্পাদক সজীব হোসেন, নজরুল ইসলাম অপু, রাফী, শরীফ মিয়া, পনির, রানা, সাজু প্রমূখ।

নরসিংদীতে ফসলী জমিতে বানরের হানা
নরসিংদীর রামপুরে খাবারের অভাবে ফসলী জমি ও মানুষের বাড়ীতে হানা দিচ্ছে কয়েক হাজার বানর। তবে এসব বাননের প্রতি ভালোবাসার কমতি নেই রামপুরবাসীর। শত অত্যচার সহ্য করেও এই প্রাণিদের আগলে রেখেছেন তারা। সরকারিভাবে বানরগুলোকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম রামপুর। কথিত আছে দেড়শ বছর আগে এখানকার ভূমি অফিসের এক তহসিলদার একটি পুরুষ বানর পুষতেন। বদলি হয়ে তিনি চলে গেলেও রেখে যান বানরটি। পরবর্তীতে অপর এক তহসিলদার আরেকটি স্ত্রী বানর এনে দুটিকেই জঙ্গলে ছেড়ে দেন। সেই থেকে বাড়তে থাকে বানরের সংখ্যা। গল্পটি সত্য হোক আর না হোক রামপুরে এখন বানরের সংখ্যা প্রায় চার হাজার।

দিনদিন বন জঙ্গল কমতে থাকায় দেখা দেয় প্রাকৃতিক খাবারের ঘাটতি। এরপর থেকেই প্রতিনিয়ত ফসলী জমি ও মানুষের বাড়িতে হানা দিচ্ছে বানরের দল।

বানর সংরক্ষণে সরকারি বরাদ্ধের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করার কথা বললেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: গোলাম মোস্তফা।

স্থানীয়রা বলছেন, ঠিকমতো উদ্যোগ নেয়া হলে রামপুর হতে পারে প্রাণী বৈচিত্র্যের অভয়ারণ্য। আর এর সাথে গ্রামের প্রকৃতি মিলিয়ে তৈরি করা সম্ভব দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র।

গরমে সবচেয়ে বড় রোগ হচ্ছে হিটস্ট্রোক


ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. সুদীপ রঞ্জন দেব বলেছেন, এই গরমে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে হলে ছাতা ব্যবহারের বিকল্প নেই। বিশেষ করে ঢাকা শহরে রৌদ্রের তাপ প্রখর। তাই ঘরের বাইরে বের হলেই ছাতা নিয়ে বের হওয়া উচিত। কারণ, হিটস্ট্রোক আক্রান্ত রোগীদের বাঁচানো খুবই কষ্টকর।

তিনি বলেন, লন্ডনে যেখানে তাপমাত্রা খুবই কম সেখানেও বাইরে বের হলে সবাই ছাতা ব্যবহার করেন। আর বাংলাদেশে এত বেশি তাপমাত্রা সত্ত্বেও কেন ছাতা ব্যবহার করা হয় না, তা বুঝি না।

ডা. সুদীপ রঞ্জন দেব বলেন, এই গরমে সবচেয়ে বড় রোগ হচ্ছে হিটস্ট্রোক। এটি হলে রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তার শরীরের মাল্টি অরগানগুলো ফেল করে। রোগীর কিডনি ও ফুসফুস কাজ করেনা।

ডা. সুদীপ আরো জানান, গরমে ঘাম বেশি হওয়াতে ক্ষতি নেই। তবে এর বিপরীতে প্রচুর পানি খেতে হবে। প্রয়োজনে সঙ্গে একটি পানির বোতল রাখতে হবে। কিন্তু বাইরের পানি কোনভাবেই পানযোগ্য নয়। এমনকি দোকানের ফিল্টার পানিও না। বাসায় ফোটানো পানি সঙ্গে নেওয়ায় ভাল। কারণ, পানি বাহিত রোগও এ সময়ে অনেক বেশি হয়। আর কোন কিছু হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

শিক্ষার জন্য এ এক অন্যরকম পাঠশালা

ভিন্ন ধরনের শ্রেণীকক্ষসেখানে নেই কোনো চারদেয়ালপড়ানো হচ্ছে খোলা আকাশের নিচেযেন শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির মাঝে থেকে পড়তে পারেএই পরিবেশ তাদের আরও মনোযোগ বাড়িয়ে দেবেআচার-আচরণেও পরিবর্তন আসবেএটি কোনো স্বপ্নের গল্প নয় বাস্তবে এই শ্রেণীকক্ষ তৈরি হয়েছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পৌর এলাকার কান্দাপাড়ায়স্কুলের নাম শহীদ বশিরুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়এই স্কুলের নকশা পরিকল্পনা করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাতলুবা খান
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ হিসেবে বাইরের শ্রেণীকক্ষ এই শিরোনামে মাতলুবা খান তাঁর মাস্টার্স থিসিস করেনএই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ৩০ জন শিক্ষার্থীর ওপর তিনি গবেষণা করেনতাঁর গবেষণার ফল থেকে এ ধরনের শ্রেণীকক্ষ তৈরি করা হয়েছেবিদ্যালয়ের সাড়ে তিন শ শিক্ষার্থীর প্রিয় জায়গা বাইরের শ্রেণীকক্ষবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জাকিউল ইসলামের তত্ত্বাবধানে মাতলুবা খান তাঁর এই বাইরের শ্রেণীকক্ষ মডেলের স্থাপত্য বাস্তবায়ন করেন
সরেজমিনে গত শনিবার রায়পুরার কান্দাপাড়া শহীদ বশিরুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে ইটের তৈরি কালো একটি বোর্ডকে কেন্দ্র করে চার সিঁড়ির ছোট একটি গ্যালারিসেখানে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরাপ্রাকৃতিক পরিবেশে চারদিকবেষ্টিত দেয়ালবিহীন অর্ধ গোলাকার গ্যালারি ও তার মাঝখানে একটি কালো বোর্ডসেখানে শিক্ষক তাদের পড়াচ্ছেন কয়েকটি শ্রেণীর কিছু বিষয়ে ক্লাস হয় এই খোলা শ্রেণীকক্ষেএমনকি প্রাক-প্রাথমিক ক্লাসও এখানে নেওয়া হয়
কান্দাপাড়া শহীদ বশিরুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আনোয়ারা বেগম বলে, বায়রে কেলাস (ক্লাস) করলে অনেক ভাল্লাগে (ভালো লাগে) সারেরেও আমরা দেখতে পারি, আর সারও আমগোরে দেখতে পারেএরপর আবার খোলা জায়গায় আলো-বাতাস বেশি, সব মিলাইয়া কেন জানি কেলাসরুমের থেইক্কা (থেকে) এইহানেই বেশি ভাল্লাগেবিজ্ঞান আর অঙ্ক কেলাসের লগে লগে যদি সবগুলি কেলাস এইহানে করাইত, তয় অনেক ভালা লাগত
কান্দাপাড়া শহীদ বশিরুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিখা রানী পাল বলেন, বাইরের শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ অনেক বেশি আমরা গত এপ্রিল মাস থেকে তৃতীয়-পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত ক্লাসগুলো বাইরের শ্রেণীকক্ষে নিচ্ছিএতে করে আগের তুলনায় এ দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বেশি মনোযোগ বা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে
কান্দাপাড়া শহীদ বশিরুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পৌর এলাকার মধ্যে একমাত্র আমাদের বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগতভাবে উন্নয়ন হয়নিলেখাপড়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ অনেক বড় ভূমিকা পালন করে তবে আমাদের বিদ্যালয়ের যে পরিবেশ, তাতে বাইরের শ্রেণীকক্ষ শিক্ষকদের পাঠদানে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের প্রভাষক মাতলুবা খান প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পাঠ গ্রহণের শিক্ষার একটি উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজনশিক্ষার মান উন্নয়নে প্রথমে পাঠদানের জন্য যে জায়গাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা পাঠদান ও পাঠ গ্রহণের জন্য যথাযথ কি না, তার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবেআর আমি এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা করেছি, প্রাকৃতিক পরিবেশে খোলামেলা জায়গায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান একটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলছেআর বাইরের শ্রেণীকক্ষ বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষের বিপরীতে না নিয়ে শিক্ষার্থীদের বর্ধিত শ্রেণীকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মান বাড়াতে এই প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে বা কোনো বেসরকারি সংস্থার এগিয়ে আসা উচিত বলে আমি মনে করছিকারণ আমাদের দেশে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ খুব কমএ কারণে যদি প্রতিটি বিদ্যালয়ে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে বাইরের শ্রেণীকক্ষ শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণে সহায়কের ভূমিকা পালন করবে

প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ কৃষকের মুখে হাসি

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় কৃষকেরা টিলার ঢালু অংশে প্লাবনভূমিতে পাঁচ-ছয় বছর ধরে মাছ চাষ করছেন এতে উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছেআর এসব মৎস্য খামারে অনেকের কর্মসংস্থানও হয়েছে
স্থানীয় কৃষক, মৎস্য কার্যালয় ও কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে লাল মাটির টিলাআগে বর্ষায় এসব টিলার ঢালের অনেক জমি পানিতে তলিয়ে থাকতফলে এসব জমিতে কৃষকেরা আবাদ করতে পারতেন নাবছর ছয়েক আগে কৃষকেরা প্রথমে সমিতি করে টিলার ঢালে মাছ চাষ শুরু করেনবর্তমানে এলাকায় এমন ১৫০টি সমিতিতে প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য রয়েছেন
চলতি বছর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের কুতুবেরটেক, শিবপুর ঠুটপাড়া, বিলসরণ, চাণ্ডবরটেক, আঠারদিয়া, খুষু, সোনাকুড়া; জয়নগর ইউনিয়নের বিনাইয়া, কামরাব; দড়িপুরা দুলালপুর ইউনিয়নের দুলালপুর, শিমুলিয়া, আমুরপুর গ্রামের প্রায় এক হাজার একর প্লাবনভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ হয়েছেএখানে এ বছর প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হবে বলে কৃষকেরা আশা করছেন
গত রোববার সরেজমিনে চক্রধা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ধানি জমির বিশাল মাঠগুলোতে ছোট ছোট বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছেকানাওডা গ্রামের আনোয়ার পারভেজ, সোহেল মিয়া, তাইজুল ইসলাম মিলে কৃষকদের কাছ থেকে ৩০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে তৈরি করেছেন রাঙ্গামাটি মৎস খামারআনোয়ার পারভেজ বলেন, এখানে রুই, কাতলা, কই, সরপুঁটি, সিলভার কার্প, পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়েছেমাছের খাবারসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকাআশা করছি, এবার ৪০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতে পারব
শিবপুরের বিলসরণ এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আগে বর্ষাকালে জমিগুলো পতিত থাকতপরে আমরা বেশ কিছু জমির মালিক এক হয়ে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ শুরু করিএতে আমরা নিজেরা লাভবান হয়েছিপাশাপাশি মাছ চাষের পর জমির উর্বরতা বাড়ায় ফলনও বেড়েছে
চক্রধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা বলেন, এই ইউনিয়নসহ অন্য ইউনিয়নগুলোর প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এতে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাজমহল বেগম বলেন, উপজেলায় প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছেএর মাধ্যমে মাছের চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান এবং ফসলের উৎপাদন বেড়েছে তিনি জানান, প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ সম্প্রসারণের জন্য একটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে
জেলা প্রশাসক ওবায়দুল আজম বলেন, প্লাবনভূমিতে মাছ চাষে শিবপুরের সফলতা এখন আমার জেলার জন্য আদর্শ হয়ে দেখা দিয়েছেজেলার অন্যান্য প্লাবনভূমিও মাছ চাষের আওতায় আনার জন্য আমরা চেষ্টা করছি এবং কৃষকদের উৎসাহিত করছি

নরসিংদীর লটকন যাচ্ছে বিদেশে

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দিন দিন বিদেশেও নরসিংদীর লটকনের কদর বেড়ে চলেছে। দেশীয় এই ফলের চাহিদা এখন অনেক। এ কারণে জেলায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে লটকন উৎপাদন করছেন।
ডুমুরের মতো এ গাছেও লম্বা বৃন্তে গুচ্ছাকারে ফল ধরে। একটি গুচ্ছে ২০ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ফল ধরে। লটকনের মোটা খোসার ভেতর তিন-চারটি রসালো কোষ থাকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির আঙিনায় বা বড় বড় গাছের নিচে অধিক ছায়াযুক্ত জায়গায় খুব সহজেই লটকনের আবাদ করা যায়। গাছ লাগানোর চার-ছয় বছরের মধ্যে ফল ধরে। একেকটি গাছে ১২০-১৩০ কেজি পর্যন্ত ফলন হয়। টানা ১৮-২০ বছর গাছে পর্যাপ্ত ফলন হয়।
এ বছর জেলার বেলাব, শিবপুর, মনোহরদী ও রায়পুরা উপজেলায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে। মৌসুমে এখানে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন লটকন উৎপাদন হয়, যার আনুমানিক দাম ২৫-৩০ কোটি টাকা।
বটেশ্বর গ্রামের লটকনচাষি কাউছার মিয়া বলেন, একসময় লটকনের চাহিদা ছিল না বললেই চলে। এখন বিদেশেও ক্রমেই লটকনের চাহিদা বাড়ছে। এ বছর ১০ বিঘা জমিতে লটকনের আবাদ করেছি। ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকার লটকন বিক্রি করেছি।
মরজাল বাজারে লটকন বিক্রি করতে আসা শিবপুরের জয়নগর এলাকার মজিদ মিয়া বলেন, প্রতি মণ লটকন বিক্রি হয় আড়াই থেকে চার হাজার টাকায়। পাইকারি প্রতি কেজি বিক্রি করছি ৮০-১২০ টাকা দরে। মৌসুমি ফলব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক স্বপন গাজী বলেন, আমরা সরাসরি বিদেশে পাঠাইতে পারি না। আমি নিয়া রপ্তানিকারকের কাছে বিক্রি করি। হে বিদেশে পাঠায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নরসিংদীর উপপরিচালক মুকছেদ আলী বলেন, দেশের পাশাপশি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে এখানকার লটকনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

মাধবদী নগর মাতৃসদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
             নরসিংদীর মাধবদী পৌর শহরের মাধবদী নগর মাতৃসদন হাসপাতাল প্রকল্পের মেয়াদ শেষ। তাই শনিবার থেকে হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই হাসপাতালের অর্ধশতাধিক চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধবদীতে ২০০৬ সালে এই প্রকল্প চালু করা হয়। স্থানীয় ব্যক্তিদের দান করা জমির ওপর সরকার নিজস্ব একটি ছয়তলা নগর মাতৃসদন ও একটি তিনতলা নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করে। এ ছাড়া ভাড়া করা দুটি বাড়িতে দুটি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা করা হতো। স্থানীয় সরকার বিভাগের বাস্তবায়নাধীন দ্বিতীয় আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্পের আওতায় এই মাতৃসদন চলছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছিল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ১৪ জন চিকিৎসকসহ ১৩৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের মেয়াদ বর্ধিত করা হলেও সরকার জুলাই থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ওই ঘোষণা অনুযায়ী আজ হাসপাতালের কার্যক্রমের শেষ দিন।
গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ছয়তলা ভবনের এই হাসপাতাল জনমানবশূন্য। নিচতলায় পড়ে রয়েছে একটি পিকআপ। হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মোখলেছুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, হাসপাতালটি এখন পৌরসভার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পের টাকা এখনো ছাড় না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চার মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে।
পৌরসভার মেয়র মো. ইলিয়াছ মিয়া বলেন, পৌর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মতো সরকারি আর কোনো হাসপাতাল নেই। পৌরসভার নিজস্ব আয় দিয়ে হাসপাতালের দেড় শ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয়ভার বহন করাও সম্ভব নয়। আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছিলাম প্রকল্পটি বন্ধ না করতে।
স্থানীয় কোতালীর চর এলাকার হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি বিনা মূল্যে ওষুধ পাওয়ায় স্থানীয় লোকজনের একমাত্র ভরসা ছিল এই হাসপাতাল। এখন এই এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও দ্বিতীয় আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্পের পরিচালক আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, মাধবদী ছোট শহর হওয়ায় দাতারা ওই প্রকল্পে অর্থায়ণে আগ্রহী নন। কিন্তু অন্য উপায়ে অর্থসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে আবার এই হাসপাতাল চালু করা হবে।
                   

 নরসিংদী স্টেশনের অবকাঠামোগত দুরবস্থা : রেলের প্রতি নিরুত্সাহিত হচ্ছেন যাত্রীর

দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বাংলাদেশ রেলওয়ের নরসিংদী জেলা সদরের স্টেশনটিতে। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা কম থাকায় সাধারণ যাত্রীরা ট্রেনে ভ্রমণে নিরুত্সাহিত হচ্ছেন। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা যায়, সাত মাস ধরে নরসিংদী রেলস্টেশনের ১ নম্বর লাইনটি সম্পূর্ণ রূপে অকার্যকর। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হওয়া সত্ত্বেও এটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ তেমন উদ্যোগ নেয়নি। তা ছাড়া এখানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর কোনো স্টপেজ নেই। ফলে বাধ্য হয়েই সাধারণ মানুষ বিকল্প যান হিসেবে বাসে যাতায়াত করছে।
নরসিংদী রেলস্টেশনে নামমাত্র কয়েকটি লোকাল ট্রেন অনিয়মিত স্টপেজ দিয়ে চলাচল করছে। দূরপাল্লার কোনো ট্রেন এখানে না থামায় সাধারণ যাত্রী বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। এখানে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর স্টপেজ না থাকায় চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ দূরবর্তী এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়ত এবং পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। অন্যদিকে রাজধানীতে কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কর্মী এখান থেকে গিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে পারছেন না। ফলে তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন। এতে করে রাজধানীর ওপর চাপও বাড়ছে।
জানতে চাইলে নরসিংদী রেলস্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাস্টার মো. নূরুল ইসলাম ও সদ্য বিদায়ী স্টেশন মাস্টার মরণ চন্দ্র দাস স্টেশনের সীমাহীন দুরবস্থায় কথা জানিয়ে বলেন, নরসিংদী স্টেশনে ১ নম্বর লাইন, সিগনাইলিং ব্যবস্থা, ট্রেন ক্রসিং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকায় এটি পরিচালনা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। গত তিন মাসে এখানে ১৩ লাখ ২০ হাজার ৩৪৯ টাকা আয় হয়েছে। এ ছাড়া ২০১১তে ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ১১২ ও ২০০১-১০ সালে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬১ টাকা আয় হয়েছে। স্টেশনের অবকাঠামোসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে এ আয় বহুগুণে বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ী মো. ইউনুস আলী ভূঁইয়া জানান, মালপত্র পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়া, অনিয়মিত ট্রেন চলাচল, আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ বন্ধ, ট্রেনের সিগনাল না থাকা, ট্রেন লাইন অকেজো হয়ে পড়া প্রভৃতি কারণে স্টেশনটি বিপুল পরিমাণ আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

                                     

                                        শিবপুরে ঘরে ধান তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠে চলছে এখন ধান কাটার ধুম। কৃষক -কৃষাণীরা ঘরে ধান তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জানা যায়, সেচ ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এরই মধ্যে বাজারে নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। তবে খরচের তুলনায় বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ধানের দাম বাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেক কৃষক। উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অফিসার মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, এ বছর উপজেলায় ১০ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে উফশী জাতের ধান (উচ্চ ফলনশীল) ১০ হাজার হেক্টর, হাইব্রিড ৫৯০ হেক্টরসহ অন্যান্য ধান ১৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এতে মোট ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪.১২ টন। চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০.৯০ টন। জানা যায়, প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হবে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা ঘরে ধান তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা ধান বহনের জন্য ঠেলাগাড়ি, ভ্যান রিকশা এবং ধান মাড়াই করার জন্য ইঞ্জিন চালিত মেশিন ব্যবহার করছেন। উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, সুষ্ঠুভাবে ঘরে ধান তুলতে পারলে উপজেলায় এ বছর রেকর্ড পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদন হবে।
                                     নরসিংদীতে কলা চাষে ব্যাপক সাফল্
বাংলাদেশে সবচে বেশী কলা উৎপাদন হয় নরসিংদীতে । তাই নরসিংদীকে কলার জন্য বিখ্যাত বলা হয়ে থাকে। ঢাকা সহ বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় নরসিংদীর কলা পাওয়া যায় । এবার নরসিংদীতে কলা ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে । কিন্তুু আগের তুলনায় কলা উৎপাদন করতে খরচ বেশি হওয়া কৃষক হতাসায় । এবার নরসিংদী সদর ও পলাশে প্রায় দশ হাজার একর জমিতে কলার চাষ করা হয়েছে । তবে এখানে অনেক জাতের কলা উৎপাদন করা হয়ে থাকে। বেশি কলা উৎপাদন হয় পাঁচদোনা ,শীলমান্দী, চরর্নগরদী জিনারদী সহ আরো অনেক জায়গায়। তবে বিশেষ করে সাগর সরভি চাম্পা কলা উৎপাদন করা হয়ে থাকে বেশি। উৎপাদন বেশী হলেও অতিরিক্ত খরচে জন্য অনেক কৃষক এবার কলা চাষ করছে না । কৃষকরা জানায় আগে এক গারা কলা উৎপাদন করতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ লাগতয় আর র্বতমানে এক গারা কলা উৎপাদন করতে লাগে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। কলা উৎপাদন করতে যে সার ও ঔষধ লাগে আগের তুলনায় র্বতমানে এর দাম দিগুন হয়ে গেছে আর বিদ্যুৎ-এর জন্য সেচের পানি দেওয়া যায়না। আর কলা বিঞি করতে গেলে পর্যাপ্ত দাম পাওয়া যায়না । তাই কৃষকরা হতাসা বোধ করছে। পাঁচদোনার কলা চাষী ফজর আলী জানায় আমি আগে দশ একর জমিতে কলা চাষ করতাম কিন্তুু বেশী খরচ হওয়া এখন আমি পাঁচ একর জমিতে কলা চাষ করি। একাদিক চাষি জানায় খরচ বেশি হওয়া তারা আর কলা উৎপাদন করবেনা। এবং অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলে এখন পযন্ত সরকারের কাছ থেকে কোন অনুধান পায়নি । প্রতি বছরই বৈশাখী ঝড়ে কলার চাষীদের অনেক লোকশান হয়ে যায়। তাই গরীব কলা চাষীরা যাতে আরো বেশী কলা উৎপাদন করতে পারে সে জন্য সরকারের সহযোগিতা কমনা করছে।

                                        

নরসিংদীতে শহীদ আসাদ দিবস পালিত

ওয়ারী বটেশ্বর বাঙালি সভ্যতার প্রতীক: ড. আতিউর

 

নরসিংদীতে ৩১৪ কোটি টাকার হিমাগারটি পরিত্যক্ত

 

নরসিংদীতে কৃষি জমি বিলীন করে তৈরি হচ্ছে ইটভাটা

১২ ডিসেম্বর নরসিংদী হানাদার মুক্ত দিবস

 

১০ ডিসেম্বর রায়পুরা হানাদার মুক্ত দিবস

নরসিংদীতে লোকমান হত্যার বিচারের দাবিতে ৩০ কি.মি. মানববন্ধন

লোকমান হত্যা: বিচারের দাবিতে লক্ষাধিক লোকের মানববন্ধন

জনপ্রিয় হলেই খুননরসিংদীতে আর গণমানুষের নেতা রইল না

বাংলাদেশের গৌরব নরসিংদীর শিল্প কারখানা

উয়ারী-বটেশ্বর এলাকায় জাদুঘর করা হবে: অর্থমন্ত্রী

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার ট্রলির চাপায়এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নবস্তু সুরক্ষায় জন সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত

১৫ আগষ্ট পবিত্র কোরআন শরীফের বঙ্গানুবাদকারী গিরীশ চন্দ্র সেনের  মৃত্যু

ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের ভিটায় এখন...

গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি রক্ষায় জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ

 হরপ্পার সাথে উয়ারী বটেশ্বরের তুলনা করলেন অর্থমন্ত্রী

বৌদ্ধ পদ্মমন্দিরের অস্তিত্ব নিশ্চিত

আবার ক্ষতবিক্ষত অসম রাজার গড়

নরসিংদীর মেঘনা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে লাখো মানুষের ঢল

আবদুল মান্নান ভূইয়া ছিলেন সুস ধারার আদর্শের রাজনীতির প্রতীক আবেদ

নরসিংদীর শেখেরচর-বাবুরহাটে জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা।


 

 

 

 

 

 

 

 

 




Copyright 2021 www.narsingdibd.com . All Rights Reserved.Email: info@narsingdibd.com.